পেছনে হাতকড়া পরিয়ে লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি দিয়ে আদালতে নেওয়ায় আপত্তি জানিয়েছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বৃহস্পতিবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় পলকসহ আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ছিল বৃহস্পতিবার।
আদালতে পলক বলেন, লিফট চালু থাকা সত্ত্বেও তাকে পেছনে হাতকড়া পরিয়ে ছয়তলা সিঁড়ি দিয়ে আদালতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বিচারকের কাছে বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনে হাতকড়া সামনে রাখার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।
জবাবে বিচারক বলেন, নিরাপত্তার কারণেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তখন পলক বলেন, হাতকড়া সামনে রাখলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
এ সময় আদালতের পিপিকে উদ্দেশ করে পলক বলেন, আদালতের সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি মনে রাখা প্রয়োজন। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অবস্থানও খুব দূরে নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুনানি শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার সময়ও পলককে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামানো হয়। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লিফট শুধু তাদের জন্যই নষ্ট থাকে। তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি, তরিকুল ইসলামসহ অন্যরাও এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন জানান, মামলার দুই আসামি সাজ্জাদ হোসেন ও নাইমুল হাসান রাসেলের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি থাকায় তাদের কারাগার থেকে আদালতে আনা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলমের আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার কারাগারে থাকা আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলায় মোট ৩৪ জন আসামির মধ্যে কয়েকজন কারাগারে রয়েছেন এবং অন্যরা পলাতক।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে মো. হোসেন নামে এক ট্রাকচালক নিহত হন। ওই দিন গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের মা রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং ছাত্রলীগের নেতারা। তাদের মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক, সাদেক খান, ফুরকান হোসেন ও শাহজাহান খান কারাগারে আটক রয়েছেন বলে মামলার তথ্য থেকে জানা যায়।