বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬
৭ কার্তিক ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> রাজশাহী মেডিকেলে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি, চিকিৎসাসেবা নিয়ে ভোগান্তিতে রোগীরা

>> ব্রিজের নিচে প্লাস্টিকের ড্রামে মিলল নারীর মরদেহ

>> ছাত্রবিক্ষোভ থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক যোগসূত্র নিয়ে বিতর্ক

>> সাজেকে সড়ক অবরোধ, নিরাপত্তা প্রহরায় ফিরছেন ৩ হাজার পর্যটক

>> বিএনপি নেতাকে মারধরের অভিযোগ, অভিযুক্ত বললেন—আধা ঘণ্টা আগে আমাকেই মেরেছে

>> নারায়ণগঞ্জে বাড়ি ফেরার পথে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

>> গাজীপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঝুট গুদাম-মসজিদসহ পুড়ল ১০ দোকানপাট

>> ‘অস্ত্র দিয়ে বলে, যুদ্ধ করতে হবে না, শুধু সামনে-পেছনে যাবা’

>> জিনের বাদশা ও তান্ত্রিক সেজে প্রতারণা, পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ২

>> নিঃসন্তান বোনের সম্পত্তির লোভে হত্যার অভিযোগ, ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫

আপনি পড়ছেন : রাজনীতি

ছাত্রবিক্ষোভ থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক যোগসূত্র নিয়ে বিতর্ক


Sifat Islam Sohag ২২ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:৫৬



ছাত্রবিক্ষোভ থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক যোগসূত্র নিয়ে বিতর্ক


বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের একটি প্রতিবেদনে ফ্রান্স ও ভারতের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সম্ভাব্য সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে মার্কিন ব্যবসায়ী নেভিল রয় সিংহাম এবং ভারতীয় মার্ক্সবাদী বুদ্ধিজীবী বিজয় প্রসাদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কমিউনিস্ট, সমাজতান্ত্রিক ও ইসলামপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভের প্রচার ও বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে। ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ছাত্রবিক্ষোভ এবং ভারতের বিভিন্ন আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে সংবাদমাধ্যমটি এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

তবে বিভিন্ন দেশের আন্দোলনের মধ্যে সমন্বিত কোনো আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা রয়েছে কি না, কিংবা সিংহাম ও প্রসাদ এসব বিক্ষোভ সংগঠিত বা পরিচালনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন কি না, তা প্রতিষ্ঠার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। ফলে এসব অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

প্রতিবেদনে নেভিল রয় সিংহামের অর্থায়ন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চীনের সাংহাইয়ে বসবাস করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন দেশের বামপন্থী সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমে অর্থায়নের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে।

২০২৩ সালের আগস্টে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনে সিংহামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছে অর্থ পৌঁছানোর বিষয়ে অনুসন্ধানী তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল। অর্থের একটি অংশ বামপন্থী সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ফক্স নিউজও সিংহামের কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বিজয় প্রসাদকে সিংহামের ভারতীয় সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কলকাতায় জন্ম নেওয়া প্রসাদ একজন মার্ক্সবাদী বুদ্ধিজীবী। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও পুঁজিবাদের সমালোচক হিসেবেও তিনি পরিচিত। তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-এর নেত্রী বৃন্দা কারাতের ভাতিজা।

তবে রাজনৈতিক আদর্শ বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি বিক্ষোভের পরিকল্পনা কিংবা পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ ধরনের অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে ভারতের কয়েকটি আন্দোলনের সঙ্গে বিদেশি পক্ষের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অতীতেও মিসরের জেসমিন বিপ্লব এবং শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে বিদেশি শক্তির ভূমিকা সম্পর্কে নানা অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির পক্ষ থেকেও কিছু আন্দোলনের পেছনে সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত তৎপরতা থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব আন্দোলনের পরিস্থিতি, কারণ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এক নয়। তাই প্রতিটি ঘটনার প্রেক্ষাপট আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি।

ভারতের গণতন্ত্র ও নির্বাচনব্যবস্থা নিয়েও ওই আলোচনায় বিতর্ক উঠে আসে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, দেশে ভোট চুরির ঘটনা ঘটছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি নির্বাচনে ব্যালট পেপার পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার পক্ষে মত দিয়েছেন।

অন্যদিকে, বিজেপির এক নেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে রাজনৈতিক বয়ান হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর যুক্তি, ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিজেপির জয় এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে দলটির আসনসংখ্যা কমে যাওয়ার পরও এনডিএ সরকারের ক্ষমতায় থাকার ঘটনা বিরোধীদের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিরোধী দলগুলো সেসব নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে নির্বাচন নিয়ে রাহুল গান্ধীর অভিযোগ এবং বিজেপির পাল্টা বক্তব্য—দুটিই সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের অবস্থান। এগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট অভিযোগ, নির্বাচনী তথ্য এবং প্রাসঙ্গিক প্রমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

আলোচনায় অংশ নেওয়া সাংবাদিক গৌরব সাওয়ান্ত বলেন, বিভিন্ন দেশের বিক্ষোভের মধ্যে যোগসূত্র থাকার অভিযোগ তদন্ত করে দেখা যেতে পারে। তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তা প্রমাণের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ এবং আদালতে উপস্থাপন করা জরুরি।

বিশ্বজুড়ে তরুণদের আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষের ভূমিকা রয়েছে কি না, কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত তৎপরতা কাজ করছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান। শুধু রাজনৈতিক অভিযোগ বা আদর্শগত মিলের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি কিংবা সংগঠনকে দায়ী না করে নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোই গুরুত্বপূর্ণ।