ফেনীর ফুলগাজীতে নিজের নানাবাড়ির এলাকার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘদিন পর নিজ নানাবাড়ির এলাকায় এসে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত অনুভূতি ভাগ করে নেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তারেক রহমান বলেন, বহু বছর পর তিনি এই এলাকায় এসেছেন। তাই দীর্ঘ বক্তব্য না দিয়ে নানাবাড়ির এলাকার মানুষ ও আপনজনদের সঙ্গে নিজের মনের কিছু কথা বলতে চান।
মায়ের প্রসঙ্গ তুলে স্থানীয়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, মা আর নেই। এখন এলাকার মানুষকেই তাকে দেখে রাখার দায়িত্ব নিতে হবে। এ সময় উপস্থিত লোকজন সম্মতিসূচক সাড়া দেন।
অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, সেবায়েত ও পুরোহিতদের সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কয়েকজন কৃষকের হাতে সরাসরি কৃষক কার্ডও তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে ফেনী জেলার জন্য কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত সুবিধাভোগীদের মধ্য থেকে কৃষকদের উপস্থিতি ছিল। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন বিষয় ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও ঘোষণা দেন তারেক রহমান। বর্তমানে ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এর আগে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ফুলগাজীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
সফরের আরেক পর্যায়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
দীর্ঘ সময় পর নিজের নানাবাড়ির এলাকায় তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত স্মৃতিও তুলে ধরেন।