রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে গঠিত তদন্ত কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর এসব সিদ্ধান্ত জানায় প্রশাসন।
বিক্ষোভকারীদের ছয় দফা দাবিকে কেন্দ্র করে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুই ঘণ্টার বেশি সময় আলোচনা হয়। পরে রাত সোয়া ১টার দিকে প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরেন উপাচার্য।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তদন্ত কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদনে যাঁদের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপাচার্য জানান, তদন্তে দোষী হিসেবে শনাক্ত শিক্ষার্থীদের প্রাথমিকভাবে সাময়িক বহিষ্কার করা হতে পারে। পরবর্তী সময়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অভিযুক্তদের কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী না হলে তাঁদের সনদ বাতিল এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
এ ছাড়া তদন্তে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হলে তাঁদের নাম মামলার এজাহারে যুক্ত করে আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পেছনে ইন্ধন বা উসকানি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।
এর আগে হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলায় নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে তাঁরা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং একপর্যায়ে উপাচার্যসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে তদন্ত দ্রুত শেষ করা, অভিযুক্তদের শনাক্ত করা এবং দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলে তাঁরা সহযোগিতা করবেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে নতুন কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে ক্যাম্পাসে কর্মরত তিনটি সাংবাদিক সংগঠন। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
এর আগে রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ হামলায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন। তবে কারা হামলায় জড়িত ছিলেন, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিন নেতাকে পদ থেকে বহিষ্কার এবং আরও ছয়জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন এবং পরবর্তী আইনগত ও সাংগঠনিক পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারিত হবে।